রান্নার সময় অনেকেই সরাসরি কল বা ট্যাপের পানি ব্যবহার করেন। কলের পানি নিরাপদ, এমন ধারণা থেকেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলাদা করে পানি পরিশোধনের প্রয়োজন মনে করেন না অনেকে। আবার রান্নার সময় পানি ফুটে যাওয়ায় এতে থাকা জীবাণুও নষ্ট হয়ে যায়, এমন ধারণাও প্রচলিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি ফুটিয়ে নিলেই সব ধরনের দূষণ থেকে মুক্ত হওয়া যায় না।
পানি ফুটালে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও কিছু পরজীবী ধ্বংস হতে পারে। কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত অনেক রাসায়নিক পদার্থ ফুটানোর পরও থেকে যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সীসা, আর্সেনিক, ফ্লোরাইড, নাইট্রেট, বিভিন্ন লবণ ও শিল্পকারখানার রাসায়নিক।
ফুটালেই দূর হয় না রাসায়নিক
বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি ফুটানোর সময় এর একটি অংশ বাষ্প হয়ে বের হয়ে যায়। কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত অনেক পদার্থ বাষ্পের সঙ্গে বের হয় না। ফলে পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশিষ্ট পানিতে এসব পদার্থের ঘনত্ব বরং বেড়ে যেতে পারে।
পানির পাইপ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও দূষণের একটি সম্ভাব্য উৎস। বিশেষ করে পুরোনো পাইপ বা সরবরাহব্যবস্থা থেকে সীসার মতো ধাতু পানিতে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গরম পানি ঠান্ডা পানির তুলনায় দ্রুত সীসা দ্রবীভূত করতে পারে। তাই রান্নার জন্য সরাসরি গরম কলের পানি ব্যবহার না করে ঠান্ডা পানি নিয়ে তা গরম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বাড়ছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উদ্বেগ
পানির ক্ষেত্রে আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। অতি ক্ষুদ্র এসব প্লাস্টিক কণা খালি চোখে দেখা যায় না। এমনকি পানির স্বাদ বা গন্ধ থেকেও এর উপস্থিতি বোঝার উপায় নেই। পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষণা ও উদ্বেগ দুটোই বেড়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবার কলের পানি দিয়ে ভাত বা অন্য কোনো খাবার রান্না করলেই ক্ষতি হবে- এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার কারণ নেই। বরং উদ্বেগের বড় বিষয় হলো দীর্ঘদিন ধরে দূষিত পানির সংস্পর্শে থাকা। অল্প পরিমাণে দূষিত উপাদান বারবার খাবার ও পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে।
রান্নার পানিতেও সতর্কতা জরুরি
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পান করার জন্য যদি পানি ফিল্টার বা অন্য কোনো উপায়ে পরিশোধন করে ব্যবহার করা হয়, রান্নার পানির ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা অনুসরণ করা উচিত। কারণ রান্নায় ব্যবহৃত পানিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান শেষ পর্যন্ত খাবারের অংশ হয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
তাই শুধু পানি ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করাকেই নিরাপত্তার একমাত্র উপায় হিসেবে না দেখে পানির উৎস, পাইপলাইন ও পানিতে রাসায়নিক দূষণের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। নিরাপদ পানি নিশ্চিত হলে তা শুধু পান করার জন্য নয়, রান্নার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি
Safe Food Rights Bangladesh (SFRB)
নিরাপদ খাদ্য, আমাদের অধিকার
74, Bir Uttam C.R Datta Road, Hatirpool, Dhaka-1205, Bangladesh.
© Copyright 2026 - sfrbangladesh.com