ভারতের কর্ণাটকের মাঙ্গালুরুতে বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত মুরগি বিক্রির অভিযোগে একটি KFC আউটলেটে অভিযান চালিয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ। এক গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে আকস্মিক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় আউটলেটটির রান্নাঘর, স্টোররুম, কোল্ড স্টোরেজ, ডিপ ফ্রিজার এবং মজুত করা ফ্রাইড চিকেন পরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা।
অভিযোগকারী অনলাইনে KFC থেকে ‘চিকেন পেরি পেরি লেগস’ অর্ডার করেছিলেন। খাবার পাওয়ার পর তিনি মুরগিটি বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত বলে অভিযোগ করেন। পরে বিষয়টি খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের নজরে আসে।
অভিযোগের পর কর্মকর্তারা মাঙ্গালুরুর ওই আউটলেটে আকস্মিক পরিদর্শন চালান। অভিযানের সময় একটি গুদাম সিল করে দেওয়া হয় এবং মুরগির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে KFC কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা ও মানসংক্রান্ত নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (FSSAI) নির্দেশনা অনুসরণ করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্য পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। তারা স্বনামধন্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকে মানসম্মত মুরগি সংগ্রহ করে এবং সরবরাহকারী থেকে ভোক্তার প্লেট পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়।
KFC আরও জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
কর্ণাটজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা অভিযান
মাঙ্গালুরুর ঘটনার পাশাপাশি কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাইসুরু শহর ও জেলায় অভিযান চালিয়ে রিও মেরিডিয়ান হোটেল থেকে ৯ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ মুরগি, গ্র্যান্ড মেরকিউর হোটেল থেকে ৬৮ কেজি মাংস এবং কিউ স্টার হোটেল থেকে ৪ কেজি মাশরুম জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় পরবর্তী তদন্ত চলছে।
এ ছাড়া মাইসুরু ও নানজানগুড তালুকের বিভিন্ন রিসোর্টেও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। মোট তিনটি রিসোর্ট পরিদর্শন করে তিনটি নোটিশ দেওয়া হয়। এ সময় পাঁচটি খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে দুটি আইনগত নমুনা এবং তিনটি জরিপের নমুনা। অভিযানে ১৬ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচনশীল খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
এর আগে বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালের রান্নাঘরেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁচামাল পাওয়া যায় বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান। এর মধ্যে ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ সুজি, আইসিং সুগার, ময়দা ও বিভিন্ন বেকারি পণ্য। এ ছাড়া মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া চার প্যাকেট মিশ্রণজাতীয় খাবার এবং নয় প্যাকেট পানিপুরি পাওয়া যায়।
অভিযানে আরও জব্দ করা হয় বাসি রুটি, দুটি প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড, পাঁচ প্যাকেট মেথি পাতা, ৩০ কেজি ওজনের ছয় প্যাকেট ভাজা ছোলা, ৩০ কেজি ওজনের এক প্যাকেট সবুজ মটরশুঁটি এবং ৩০ কেজি ওজনের পাঁচ প্যাকেট মুগ ডাল।
বিলাসবহুল হোটেলেও মিলছে অনিয়ম
গত সপ্তাহে বেঙ্গালুরুর কয়েকটি বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্টে খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের অভিযানেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ফোর সিজনস ও শাংরি-লা হোটেলও ছিল। কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ ও পচা মাংস পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
কর্ণাটকজুড়ে ধারাবাহিক এসব অভিযান খাদ্য সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য এবং খাদ্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদারের বিষয়টি সামনে এনেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
Safe Food Rights Bangladesh (SFRB)
নিরাপদ খাদ্য, আমাদের অধিকার
74, Bir Uttam C.R Datta Road, Hatirpool, Dhaka-1205, Bangladesh.
© Copyright 2026 - sfrbangladesh.com