লেমনগ্রাস ছাড়া স্যুপ রান্নাটা যেন ঠিক পরিপূর্ণ হয় না। বিভিন্ন স্যুপ তৈরির অন্যতম একটি জনপ্রিয় উপাদান এটি। এটি একটি সুগন্ধি ঘাস, যা মূলত চা ও বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সিট্রাল, ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং বিভিন্ন ফেনলিক কম্পাউন্ড রয়েছে। এসব উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও অন্যান্য বায়োলজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি নিয়ে গবেষণা হয়েছে।
লেমনগ্রাসের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের জানিয়েছেন সিলেট ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের পুষ্টিবিদ স্বর্ণালী দাশ বিজয়া।
সর্দি, কাশি ও জ্বরে উপকারী
এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণে সমৃদ্ধ, যা সর্দি, কাশি, জ্বর ইত্যাদির সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। এতে উপস্থিত ভিটামিন ‘সি’ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে
লেমনগ্রাস একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। এটি পটাশিয়ামসমৃদ্ধ, যা রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এটি লিভারকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
উজ্জ্বল ত্বক ও চুলের জন্য
লেমনগ্রাস ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসরোধী উপাদানে সমৃদ্ধ এবং এটা ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নিয়ে ত্বককে পরিষ্কার করে। ব্রণ, অ্যাকনি ও একজিমার মতো ত্বকের সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা করে। এ ছাড়া, এটি মাথার ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করে, মাথার ত্বকের অস্বস্তি দূর করে। আর চুলকানির সমস্যাও দূর করে।
হজমশক্তি বাড়ায়
লেমনগ্রাস পেট পরিষ্কার রাখে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে সিট্রাল নামক একটি উপাদান উপস্থিত, যা হজমশক্তিতে সহায়তা করে। এটি বদহজম, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি যাবতীয় পেটের রোগের উপশমে ভালো কাজ করে।
আর্থ্রাইটিসের ব্যথা নিরাময় করে
লেমনগ্রাসের মধ্যে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং ব্যথা নিরাময়কারী গুণ ভরপুর থাকার ফলে এটা আর্থ্রাইটিস, রিউমাটিজম, গাউট এবং গাঁটের অন্যান্য ব্যথা-যন্ত্রণার নিরাময় করে।
কার্যকর ডিটক্সিফায়ার
লেমনগ্রাস শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়। লেমনগ্রাস একাধারে লিভার, অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং মূত্রথলি পরিষ্কার করার পাশাপাশি সার্বিকভাবে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়।
এ ছাড়া, কিছু গবেষণায় লেমনগ্রাসের অ্যারোমা নিয়ে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা কমার সম্ভাবনাও পাওয়া গেছে।
কীভাবে খাবেন?
একটি তাজা লেমনগ্রাসের পাতা ভালোভাবে ধুয়ে হালকা ছেঁচে নিয়ে ২৫০–৩০০ মিলিলিটার গরম পানিতে ৫–১০ মিনিট রেখে চা তৈরি করা যায়। চাইলে সামান্য লেবুর রস যোগ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত চিনি বা মধু না দেওয়াই ভালো। এটি ক্যাফেইন-ফ্রি হওয়ায় অনেকের জন্য নিয়মিত চায়ের একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
লেমন গ্রাস, তুলসী পাতা ও এলাচের মিশ্রণ গরম করে খেলে তা সর্দি-কাশি নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকর। তবে লেমন গ্রাস এসেনশিয়াল ওয়েল সরাসরি পান করা উচিত নয়।
লেমনগ্রাস খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না। বেশি লেমনগ্রাস খেলে বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, মাথা ঘোরা বা ডায়রিয়া হতে পারে।
অন্তঃসত্ত্বাকালীন সতর্কতা প্রয়োজন। বেশি পরিমাণে লেমনগ্রাস দিয়ে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। অন্তঃসত্ত্বাকালে নিয়মিত ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করলে সতর্ক থাকা উচিত। লেমনগ্রাসের সম্ভাব্য ব্লাড গ্লুকোজ লোয়ারিং ইফেক্টের কারণে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে ওষুধের সঙ্গে মিলিত প্রভাব হতে পারে।
ব্লাড প্রেশারের ওষুধ গ্রহণ করলেও অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ কিছু গবেষণায় লেমনগ্রাসের সম্ভাব্য ব্লাড প্রেশার লোয়ারিং ইফেক্ট দেখা গেছে।
এসেনশিয়াল ওয়েল সরাসরি পান করা যাবে না। লেমনগ্রাস চা এবং লেমনগ্রাস এসেনশিয়াল ওয়েল এক জিনিস নয়। এসেনশিয়াল ওয়েল অত্যন্ত ঘন মাত্রার এবং মুখে খাওয়ার জন্য নিজে থেকে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ত্বকে এসেনশিয়াল ওয়েল ব্যবহার করলেও আগে প্যাচ টেস্ট করা উচিত।
সূত্র: The Daily Star বাংলা
Safe Food Rights Bangladesh (SFRB)
নিরাপদ খাদ্য, আমাদের অধিকার
74, Bir Uttam C.R Datta Road, Hatirpool, Dhaka-1205, Bangladesh.
© Copyright 2026 - sfrbangladesh.com