শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বাড়তে থাকা স্থূলতা মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এতে ওজন কমানোর ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম এবং আচরণগত সহায়তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে স্কুলশিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অপুষ্টির সবচেয়ে সাধারণ ধরন হিসেবে কম ওজনকে ছাড়িয়ে গেছে স্থূলতা।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী স্থূল কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে তার আগে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। এসব পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না মিললেই কেবল ওষুধ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা উচিত।
গুরুতর স্থূলতায় আক্রান্ত শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ব কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ওজন কমানোর অস্ত্রোপচারও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে অস্ত্রোপচারের আগে অন্তত ছয় মাস চিকিৎসা দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি, এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে স্থূলতার চিকিৎসায় ওষুধ, অস্ত্রোপচার বা কোনো ধরনের যন্ত্র ব্যবহারের পরিবর্তে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, শারীরিক কার্যক্রম এবং আচরণগত সহায়তার সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। এসব পদ্ধতির নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত নিশ্চিত প্রমাণ না থাকায় এমন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লুজ মারিয়া দে রেগিল বলেন, জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ নিয়ে বর্তমানে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। তবে গবেষকেরা এসব ওষুধের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করছেন। ভবিষ্যতে আরও তথ্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে সংস্থার মূল্যায়ন পরিবর্তন হতে পারে।
দে রেগিল বলেন, “শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্থূলতার চিকিৎসার মূল ভিত্তি ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়। বরং এমন পূর্ণাঙ্গ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তারা স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারে, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।”
ইতোমধ্যে স্থূলতায় আক্রান্ত কম বয়সী রোগীদের ওজন কমানোর জন্য কিছু জিএলপি-১ ওষুধ অনুমোদন পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী কিছু কিশোর-কিশোরীর ক্ষেত্রে নোভো নরডিস্কের ওয়েগোভি ও স্যাক্সেন্ডা ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৬ থেকে ১১ বছর বয়সী কিছু শিশুর ক্ষেত্রেও স্যাক্সেন্ডা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম এবং আচরণগত কর্মসূচির ওপর জোরালো পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। এসব কর্মসূচিতে অভিভাবক বা যত্নদাতাদের যুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা তত্ত্বাবধানের আওতায় ডিজিটাল সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রাখা যেতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডব্লিউএইচও বলেছে, স্বাস্থ্যকর খাবার ও শারীরিক কার্যক্রম সবার জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা জরুরি। শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শিশুদের স্থূলতা বাড়ার প্রবণতা থামানো সম্ভব নয়।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় ৪০ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ছিল। তাদের মধ্যে প্রায় ১৭ কোটি মানুষ স্থূলতায় ভুগছিল। এ বয়সী মানুষের মধ্যে স্থূলতার হার ১৯৯০ সালের তুলনায় চার গুণ বেড়েছে।
Safe Food Rights Bangladesh (SFRB)
নিরাপদ খাদ্য, আমাদের অধিকার
74, Bir Uttam C.R Datta Road, Hatirpool, Dhaka-1205, Bangladesh.
© Copyright 2026 - sfrbangladesh.com