কোমল পানীয় ‘৭আপ এক্সট্রা ফিজ’-এ নিম্নমানের উপাদান, নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি রাসায়নিকের ব্যবহার এবং মোড়কজাতকরণ ও লেবেলিংয়ে অনিয়মের অভিযোগে ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত এ নির্দেশ দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষণ প্রতিষ্ঠান (বিএসটিআই) নির্ধারিত ছয়টি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে উত্তীর্ণ হতে পারেনি পানীয়টি। এ ঘটনায় ডিএসসিসির নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও প্রসিকিউটিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার খিলগাঁও এলাকার ‘ব্রাদার্স কম্পিউটার্স অ্যান্ড কনফেকশনারি’ থেকে ২০০ মিলিলিটারের তিনটি ‘৭আপ এক্সট্রা ফিজ’ বোতল নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত ছয়টি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে পানীয়টি উত্তীর্ণ হতে পারেনি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পানীয়টি উৎপাদন ও বাজারজাত করার সময় নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি কৃত্রিম রাসায়নিক ও কৃত্রিম মিষ্টিকারক ব্যবহার করা হয়েছে। পণ্যের মোড়কে ‘চিনি নেই, তবে পুষ্টিগুণবিহীন মিষ্টিকারক আছে’, এমন তথ্য উল্লেখ করা হলেও লেখার অক্ষর অত্যন্ত ছোট হওয়ায় তা খালি চোখে সহজে দেখা বা পড়া যায় না। মামলার অভিযোগে এ ধরনের লেবেলকে ‘মোড়কবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা, ২০১৭’ এবং ‘পণ্য মোড়কজাতকরণ বিধিমালা, ২০২১’-এর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথিতে পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনের বরাতে পানীয়টিকে ‘মানসম্পন্ন নয়’ ও ‘নিরাপদ নয়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ধরনের রাসায়নিকযুক্ত পানীয় নিয়মিত গ্রহণ করলে শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এসব অভিযোগে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৬, ২৭, ৩২ (ক), ৪১ ও ৪২ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনের ৫৮ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার আবেদনে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে ট্রান্সকমের ‘৭আপ ন্যাচারাল লেমন ফ্লেভার এক্সট্রা ফিজ’-এর ৮৭৪ নম্বর ব্যাচসহ এ ধরনের সব ক্ষতিকর পানীয় দেশের বাজার ও দোকান থেকে বাজেয়াপ্ত এবং প্রত্যাহারের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমানকে আগামী ১৬ নভেম্বর সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
Safe Food Rights Bangladesh (SFRB)
নিরাপদ খাদ্য, আমাদের অধিকার
74, Bir Uttam C.R Datta Road, Hatirpool, Dhaka-1205, Bangladesh.
© Copyright 2026 - sfrbangladesh.com