টুথপেস্টসহ নিত্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষা ও জাতীয় মান নির্ধারণের উদ্যোগ

টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি যাচাই এবং এ বিষয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধির আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে শিল্পমন্ত্রী এ কথা জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর উপাদান থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তবে ওই গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস কিংবা তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, অসম্পূর্ণ গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে যাতে জনমনে বিভ্রান্তি বা অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সে জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

মন্ত্রী জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক এবং ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একাধিক সভা করেছে।

কমিটির প্রত্যক্ষ তদারকিতে বাজার ও উৎপাদনকারী কারখানা থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের জন্য এসব নমুনা বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চে (বিসিএসআইআর) পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক তুলনামূলকভাবে নতুন একটি পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয়। বিএসটিআইয়ের বিদ্যমান জাতীয় মানদণ্ডে এটি সরাসরি নিষিদ্ধ বা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ল্যাবরেটরি সুবিধাও বিএসটিআইয়ের কাছে ছিল না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে এ বিষয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর প্লাস্টিক মাইক্রোবিড সংযোজন নিষিদ্ধ করা, পণ্যের গায়ে ব্যবহৃত উপাদানের স্পষ্ট ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষা পদ্ধতি জাতীয় মানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ও পরীক্ষার পদ্ধতি নির্ধারণে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিসিএসআইআর থেকে পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় মান হালনাগাদ করা হবে।

খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরাপদ মোড়কীকরণ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মোড়কীকরণে মানসম্মত ভার্জিন ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিএসটিআই নিয়মিত খাদ্য কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শন ও তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সরকার কোনো আপস করবে না। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় কোনো পণ্যে অননুমোদিত উপাদান বা বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, বিএসটিআইয়ের নিয়মিত নজরদারির আওতায় সম্প্রতি নির্ধারিত বাংলাদেশ মান অনুসরণ না করায় ১০টি খাদ্যপণ্য ও আটটি কসমেটিকস বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে কয়েকটি মশলা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঘি ও বাটার অয়েল রয়েছে।

তিনি বলেন, মানসম্মত নয় এমন পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে।

সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো নির্ধারিত জাতীয় মান বর্তমানে নেই। এ কারণে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিকের একটি গ্রহণযোগ্য মান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার ফলাফল ও পণ্যের মান অনলাইনে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, ভোক্তা মহলসহ সবার সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কঠোর ও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ