যশোরে ১৪টিতে মাত্রাতিরিক্তসহ ১,২৯০ স্কুলের টিউবওয়েলে আর্সেনিক: ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা, জানে না কর্তৃপক্ষ

যশোর জেলার ১ হাজার ২৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪টি বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা সরকারি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি। এসব বিদ্যালয়ের ১১টিই মণিরামপুর উপজেলায়। তবে টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতির বিষয়টি জানে না সংশ্লিষ্ট অনেক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পানি পান করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরীক্ষায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকা অনুযায়ী, পানযোগ্য পানিতে আর্সেনিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা সর্বোচ্চ ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার বা ১০ পিপিবি। তবে বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানির বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার পানিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সীমা ০.০৫ মিলিগ্রাম/লিটার বা ৫০ পিপিবি নির্ধারণ করেছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আলিম গাজী বলেন, যশোর জেলার ১ হাজার ২৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানি অধিদপ্তরের নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় সবগুলোতেই আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেছে মণিরামপুর উপজেলায়। এ উপজেলার ১১টি বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি আর্সেনিক রয়েছে। এ ছাড়া বাঘারপাড়া উপজেলার একটি এবং শার্শা উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতেও মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেছে।

আবদুল আলিম গাজী বলেন, যেসব বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেছে, সেগুলোর আশপাশের এলাকার টিউবওয়েলেও আর্সেনিক থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সেসব টিউবওয়েলের পানি পরীক্ষা করা হয়নি।

তিনি জানান, ‘পিইডিপি-৪’ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর টিউবওয়েলের পানি পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে চাইলে, প্রয়োজনে স্যালো টিউবওয়েলের পরিবর্তে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হবে।

জানে না স্কুল কর্তৃপক্ষ

এদিকে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও বিষয়টি জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

মণিরামপুর উপজেলার কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতে ০.৬২ মিলিগ্রাম/লিটার আর্সেনিক পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে তাদের কেউ অবহিত করেননি বলে জানান বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার।

তিনি বলেন, ‘জেনেশুনে শিশুদের আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করতে দিতে পারি না। আগে জানলে আগেই টিউবওয়েলে লাল রং করে দিতাম।’

একই উপজেলার শ্যামকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতে ০.১০২ মিলিগ্রাম/লিটার আর্সেনিক পাওয়া গেছে।

শার্শা উপজেলার কায়বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতে ০.৬৫ মিলিগ্রাম/লিটার আর্সেনিক শনাক্ত হয়েছে, যা সরকারি সীমার তুলনায় অনেক বেশি।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সাইদুন্নেছা বলেন, ‘পরীক্ষায় মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেলে সেটা আমাদের জানানো প্রয়োজন ছিল। তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’

বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলেও জানান।

সূত্র: The Daily Campus

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ