প্রোটিনের বড় উৎস ডিম: দেশি, হাঁস নাকি পোলট্রি, কোন ডিমে কতটা পুষ্টি?

বাড়ির রান্নাঘরে ডিম থাকবে না, এমন ঘটনা মোটামুটি অস্বাভাবিক। মধ্যবিত্তের সংসারে তুলনামূলক কম খরচে ভালো মানের প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিমের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। তবে ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের ভুল ধারণা।

কারও ধারণা, ডিম খেলে হজমের সমস্যা হয়। কেউ মনে করেন হাঁসের ডিম খেলে বাড়ে বাত বা সর্দি-কাশি। আবার কোলেস্টেরলের ভয়েও অনেকে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলেন। কিন্তু ডিম নিয়ে প্রচলিত এসব ধারণার অনেকগুলোরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের একটি সহজলভ্য উৎস। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানও রয়েছে।

ডিম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ডিমের প্রোটিনকে উচ্চমানের প্রোটিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শরীরের পেশি গঠন ও ক্ষয়পূরণে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিমে থাকা বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিডও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয়।

পুষ্টিবিজ্ঞানী সুব্রত খাশনবিশ বলেন, ‘ডিমের প্রোটিন অত্যন্ত উচ্চমানের। এই প্রোটিন আমাদের মস্তিষ্ক ও পেশি গঠনে এবং প্রতিদিনের ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।’

কুসুম কি বাদ দিতে হবে?

ডিমের কুসুম নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় কোলেস্টেরলকে ঘিরে। অনেকেই মনে করেন, কুসুম খেলেই রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাবে। কিন্তু সুস্থ মানুষের খাদ্যতালিকায় পরিমিত ডিম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বর্তমান পুষ্টিবিজ্ঞানে এত সরল নিষেধাজ্ঞা নেই।

ডিমে খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরল থাকলেও একজন মানুষের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু কোলেস্টেরলের ভয়ে সবার জন্য কুসুম পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত খাদ্যপরামর্শের জন্য চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

দেশি, হাঁস নাকি পোলট্রির ডিম?

অনেকের ধারণা, দেশি মুরগি কিংবা হাঁসের ডিমই বেশি উপকারী এবং পোলট্রির ডিমে পুষ্টিগুণ কম। বাস্তবে ডিমের পুষ্টিমান নির্ভর করে ডিমের ধরন, আকার ও উৎপাদন পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

আবার ডিম খেলেই সর্দি-কাশি বা বাতের সমস্যা হবে, এমন ধারণারও সাধারণভাবে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে কারও ডিমে অ্যালার্জি থাকলে সেটি আলাদা বিষয়।

অ্যালার্জি থাকলে সতর্কতা জরুরি

কিছু মানুষের ডিমে অ্যালার্জি থাকতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে ডিম খাওয়ার পর ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি, পেটের সমস্যা, বমি কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে ডিম খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কাঁচা ডিম নয়, ভালোভাবে রান্না করে

ডিমের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপদভাবে রান্না করা। কাঁচা বা আধাসেদ্ধ ডিমে ক্ষতিকর জীবাণু থাকার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না করে খাওয়াই নিরাপদ।

অতিরিক্ত তেলে বা বেশি সময় ধরে ভাজার বদলে সেদ্ধ, পোচ বা স্বাভাবিকভাবে রান্না করা ডিম তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

চোখ ও মস্তিষ্কের জন্যও পুষ্টি

ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পাশাপাশি ডিমে রয়েছে কোলিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।

ডিমের প্রোটিনও তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য এবং পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে ডিম রাখা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে ডিমকে ঘিরে প্রচলিত নানা ভয় বা ভুল ধারণার বদলে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজন বিবেচনা করে ডিম খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডিম একা কোনো রোগের চিকিৎসা নয়, আবার সুস্থ মানুষের জন্য অকারণে ভয় পাওয়ারও কারণ নেই।

সূত্র: আরটিভি

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ