সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক, রোগাক্রান্ত গরু জবাইয়ের পর অসুস্থ ২০ জন হাসপাতালে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রোগাক্রান্ত গরু জবাই ও মাংস কাটার পর অন্তত ২০ জনের শরীরে জ্বর ও ফোস্কাসহ অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তবে পরীক্ষার মাধ্যমে কারও শরীরে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামে রোগাক্রান্ত একটি গরু জবাই ও মাংস কাটার সঙ্গে যুক্ত অন্তত ২০ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরীক্ষার মাধ্যমে এখনো কারও শরীরে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ১১ সেপ্টেম্বর উপজেলার পূর্ব বাছহাটি গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে গরুটি জবাই করা হয়। স্থানীয়রা ওই গরুর মাংস ভাগ করে নেন এবং মাংস কাটাকাটিতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন।

জবাইয়ের চার দিন পর জ্বর, পরে ফোস্কা

গরুটি জবাইয়ের চার দিন পর মাংস কাটার সঙ্গে যুক্ত চারজনের শরীরে জ্বর দেখা দেয়। পরে তাদের কারও পেটে, কারও হাতে-পায়ে এবং কারও আঙুলে ফোস্কা দেখা দেয়।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর আরও ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুর শরীরে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২০ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আক্রান্তদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন (৪০), রুমি বেগম (২৯) ও রশিদা বেগম (৫০), এই তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

আক্রান্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন আব্দুল জলিল, সফিউল ইসলাম (৫০), চান মিয়া (৫৫), শফিক (৫০), জয়নাল আবেদীন (৬০), আব্দুর রশিদ (৪০), গোলেজান বেগম (৪০), রাবেয়া খাতুন (৬৫), রাহেলা খাতুন (৫০), শরিতোন নেছা (৫০), দোলেনা আকতার (৩৫), আজমিন আরা (২৪), ফাহিমা (৪৫), ফুলমতি বেগম (৫০) ও নুর আকাইদ (৬)।

আতঙ্কে মাংস পুঁতে ফেলছেন স্থানীয়রা

শনিবার সকালে পূর্ব বাছহাটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, একসঙ্গে এতজনের শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে বাড়িতে ফ্রিজে রাখা অবশিষ্ট মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অসুস্থ গরুটিকে জবাই করে প্রায় ১০০ ভাগে ভাগ করে স্থানীয়দের মধ্যে দেওয়া হয়েছিল। মাংস কাটার কাজে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেই পরে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়।

মাঠেই চিকিৎসা নিচ্ছেন আক্রান্তরা

হাসপাতালের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, প্রচণ্ড জ্বর ও পেটে বড় আকারের ফোস্কা নিয়ে শুয়ে আছেন জয়নাল আবেদীন। আক্রান্তদের মধ্যে তিনি গুরুতর অসুস্থ বলে জানা গেছে। অন্যরাও চিকিৎসা নেওয়ার জন্য হাসপাতালে এসেছেন।

অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ শফিক আলম বলেন, বাড়ির পাশে ৫ মণ ওজনের একটি গরু অসুস্থ হয়। কী কারণে অসুস্থ জানি না। কিন্তু সেটা জবাই করার পরে অসুস্থ হয় সবাই।

স্থানীয় মেম্বার সামিউল ইসলাম বলেন, শুনেছি অসুস্থ গরু জবাই করার ৩-৪ দিন পরে ৪ জনের শরীরে প্রচন্ড জ্বর ও ফোস্কা পড়ে। গতকাল এ সংখ্যা ছিল ১৪ জন।

‘আতঙ্কের কিছু নেই’, বলছে স্বাস্থ্য বিভাগ

খবর পেয়ে আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে পূর্ব বাছহাটি গ্রামের ২০ জন রোগী জরুরি বিভাগে এসেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দিয়েছি। আতঙ্কের কিছু নেই। চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয়। আশাকরি তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন ইনশাল্লাহ।

তবে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ নিশ্চিত করতে পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। তাই উপসর্গ দেখা দেওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নজরদারি জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সূত্র: আরটিভি

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ