
সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা এবং ভোজ্যতেল, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৪২ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) অধিদপ্তরের ৫৬টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে গ্যাস সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায্য মূল্য রাখা হচ্ছে কি না, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায় হচ্ছে কি না, এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
লাইসেন্স ছাড়াই গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ, জরিমানা
ঢাকা মহানগরের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডলের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজকে লাইসেন্স ছাড়া বিপুল পরিমাণ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ, গ্যাস ক্রয়ের ক্যাশমেমো দেখাতে না পারা, ভোক্তাকে পাকা ক্যাশমেমো না দেওয়া, স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ না করা এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার দায়ে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মজুদ করা গ্যাস সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যে ভোক্তাদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
কারওয়ান বাজারে রং মেশানো মাছ ধ্বংস
অন্যদিকে, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে তেজগাঁও থানার কারওয়ান বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি রং মেশানো প্রায় ২০ কেজি মাছ ধ্বংস করা হয়।
মাছে রং ব্যবহারের দায়ে সুকুমার নামে এক মাছ বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে মাছের বাজারে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও রঙিন বাতি ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া নিত্যপণ্য ও মসলা বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং নোংরা মেঝেতে গুঁড়া মসলা রাখার অপরাধে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কৃত্রিম সংকট না তৈরির নির্দেশ
অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুদ এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়।
ভোক্তাদেরও গ্যাস সিলিন্ডার কেনার আগে ওজন, সিল, মেয়াদ ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। পণ্য কেনার সময় মূল্যতালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতেও বলা হয়েছে।
কোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে ভোক্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
