
ভালো-মন্দ যেকোনো খাবারের পর ঠান্ডা এক গ্লাস কোকা-কোলা অনেকের কাছেই তৃপ্তিদায়ক। কিন্তু এই জনপ্রিয় কোমল পানীয়তে আসলে কী থাকে, আর এর চিনি শরীরে কী প্রভাব ফেলে?
কোকা-কোলার মূল উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে কার্বোনেটেড পানি, চিনি, ক্যারামেল রং, ফসফরিক অ্যাসিড, ক্যাফেইন ও প্রাকৃতিক ফ্লেভার। কোকা-কোলা কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, পানীয়টির স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য তৈরিতে এসব উপাদান ব্যবহৃত হয়।
বিশেষ করে চিনি নিয়ে রয়েছে উদ্বেগের কারণ। কোকা-কোলার প্যাকেট বা ক্যানভেদে চিনির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট ক্যানের লেবেলে দেওয়া পুষ্টিতথ্য দেখে চিনি গ্রহণের পরিমাণ জানা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, খাবার ও পানীয় থেকে পাওয়া মুক্ত চিনি দৈনিক মোট শক্তির ১০ শতাংশের কম রাখা উচিত। আরও স্বাস্থ্যগত সুবিধার জন্য এটি ৫ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ২৫ গ্রাম বা ৬ চা-চামচ চিনির সমান।
অর্থাৎ, চিনিযুক্ত কোমল পানীয় নিয়মিত পান করলে শুধু পানীয় থেকেই দৈনিক সুপারিশকৃত সীমার বড় একটি অংশ বা তার বেশি চিনি গ্রহণ হয়ে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বেশি পরিমাণ মুক্ত চিনি গ্রহণ অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি এবং দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
ফসফরিক অ্যাসিড ও ক্যাফেইন
কোকা-কোলার টক বা ঝাঁঝালো স্বাদের একটি উৎস ফসফরিক অ্যাসিড। আর ক্যাফেইন পানীয়টির স্বাদে হালকা তিক্ততা যোগ করে। কোম্পানির প্রকাশিত উপাদান তালিকাতেও এ দুটির উল্লেখ রয়েছে।
তবে কোকা-কোলা পান করার পর ঠিক ২০ মিনিটে রক্তে শর্করা বেড়ে যায়, ৪০ মিনিটে নির্দিষ্ট মাত্রায় ক্যাফেইন শোষিত হয়ে রক্তচাপ বাড়ে এবং ওই সময়ে মস্তিষ্কের অ্যাডেনোসিন রিসেপ্টর বন্ধ হয়ে যায়, এমন নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক দাবিগুলোকে সরাসরি সাধারণ সত্য হিসেবে উপস্থাপনের আগে নির্ভরযোগ্য গবেষণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ক্ষেত্রে মূল উদ্বেগ হলো এতে থাকা মুক্ত চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিয়মিতভাবে মুক্ত চিনি গ্রহণ কমানোর পরামর্শ দেয়।
তাই তৃষ্ণা মেটাতে নিয়মিত চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের পরিবর্তে পানি বা কম চিনি থাকা পানীয় বেছে নেওয়া এবং মোট দৈনিক চিনি গ্রহণের পরিমাণের দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: Science Bee
