নকল পণ্য শনাক্তে ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ফেয়ার গ্রুপের উদ্যোগে এবং অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মহাপরিচালক বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের নিরাপদ পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে উৎপাদনকারী, আমদানিকারকসহ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পারস্পরিক মতবিনিময় ও সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

মহাপরিচালক আরও বলেন, যেসব এলাকা বা বাজারে নকল ও ভেজাল পণ্যের বিক্রি বেশি, সেগুলো চিহ্নিত করে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে এ কাজে সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পণ্যের সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য ভোক্তাকে জানানো কোম্পানির দায়িত্ব। অন্যদিকে ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা ও আইন বাস্তবায়ন সরকারের দায়িত্ব। পাশাপাশি ভোক্তাকেও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং পণ্য কেনার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে নকল ও ভেজাল পণ্যের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত ও নকল-ভেজালমুক্ত দেশ গড়তে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান এককভাবে এ কাজে সফল হতে পারে না; বরং সবাইকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে।

আসল-নকল পণ্য শনাক্তের প্রশিক্ষণ

কর্মশালায় নকল পণ্য শনাক্তকরণ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন ফেয়ার গ্রুপের হেড অব মার্কেটিং জে. এম. তসলিম কবির এবং ফেয়ার ফুড অ্যান্ড লাইফস্টাইলের হেড অব বিজনেস মো. আব্দুস সালাম।

উপস্থাপনায় নকল পণ্য কীভাবে শনাক্ত করা যায়, আসল ও নকল পণ্যের পার্থক্য নির্ণয়ের কৌশল এবং পণ্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।

এ সময় বিভিন্ন পণ্যের আসল ও নকল নমুনা হাতে-কলমে প্রদর্শন করে কোনটি আসল এবং কোনটি নকল, তা শনাক্ত করার পদ্ধতি দেখানো হয়। পাশাপাশি ফেয়ার গ্রুপের বিভিন্ন পণ্যের সাম্প্রতিক নকশা, মোড়ক, লেবেলিং ও অন্যান্য দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।

অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) আতিয়া সুলতানা বলেন, বিভিন্ন সময়ে অধিদপ্তরের তদারকি কার্যক্রম এবং ভোক্তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নকল পণ্য শনাক্ত করার প্রয়োজন হয়। আসল ও নকল পণ্যের পার্থক্য কীভাবে নির্ণয় করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধের মাধ্যমে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।

সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব

কর্মশালায় অধিদপ্তরের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মো. মাসুম আরেফিন বলেন, ভোক্তাকে দ্রুত ও ভালো সেবা দেওয়া গেলে তার সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। কোনো প্রতিষ্ঠানের কল সেন্টার যেন দ্রুত সেবা দেয়, সে বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমা বলেন, কর্মশালা থেকে নকল ও ভেজাল পণ্য শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা ও বোঝার সুযোগ হয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

কর্মশালায় ফেয়ার গ্রুপের পরিচালক ড. মো. সেলিম রেজা স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করাকে সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের অভিন্ন লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ফেয়ার গ্রুপ ভোক্তাদের সর্বোচ্চ মানের ও ভেজালমুক্ত পণ্য সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কর্মশালায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের প্রতিনিধি, কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং ফেয়ার গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনের অষ্টম তলায় অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ