
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ভেজাল দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অপরাধে একটি ডেইরি ফার্মকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ লিটার ভেজাল দুধ এবং ভেজাল উপাদান হিসেবে সংরক্ষিত দুই ব্যারেল জেলিজাতীয় পদার্থ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা ভেজাল দুধ ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৭টার দিকে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয়ের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমড়া এলাকায় অবস্থিত জুই ডেইরি ফার্মে অভিযান পরিচালনা করে।
পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান রনির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দুধের পরিমাণ ও ঘনত্ব কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জেলিজাতীয় পদার্থ এবং দীর্ঘসময় দুধ সংরক্ষণের লক্ষ্যে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহারের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানকালে ভেজাল উপাদান হিসেবে সংরক্ষিত দুই ব্যারেল জেলিজাতীয় পদার্থ ও প্রায় ২ হাজার ৫০০ লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়। জব্দ করা ভেজাল দুধ ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করা হয়।
এ ঘটনায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২, ৪৩ ও ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. মানিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. মাহমুদ আলম এবং আনসার ব্যাটালিয়নের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা করে।
ভেজাল দুধে স্বাস্থ্যঝুঁকি
জেলিজাতীয় পদার্থ ও হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মিশ্রিত ভেজাল দুধ গ্রহণে মানবদেহে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এ ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের পরিপাকতন্ত্র ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি বিকশিত নয়।
দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের ভেজাল দুধ গ্রহণের ফলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহ, বমি, ডায়রিয়া, লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস এবং শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টি গ্রহণে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের খাদ্য গ্রহণে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দুধ কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের বিশ্বস্ত ও অনুমোদিত উৎস থেকে দুধ সংগ্রহ এবং ভালোভাবে ফুটিয়ে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া দুধের রং, গন্ধ ও ঘনত্বে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে তা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্যের সন্ধান পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অথবা জাতীয় হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা
দুধসহ যেকোনো খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানো, ভেজাল প্রস্তুত করা অথবা নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড, প্রতিষ্ঠান সিলগালাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অধিদপ্তর খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণনে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে ভেজাল, নকল ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভোক্তা-স্বার্থ সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
