
লেখা: মাহমুব কবির মিলন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman, আমি জানি না আপনার রান্নায় সয়াবিন তেল ব্যবহার করা হয় কিনা। বাংলাদেশের এক বিশেষজ্ঞ দল কর্তৃক আমাদের সয়াবিন তেলের হেভিমেটাল বা কন্টামিনেশনের উপর করা গবেষণা পত্র গতকাল আন্তর্জাতিক জার্নালে পাবলিশ হয়েছে (লিংক কমেন্টে)।
লেড বা সীসা পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিক গ্রহনযোগ্য মাত্রার চেয়ে ১৯ গুন বেশি।
নিকেল পাওয়া গেছে ২৩ গুন বেশি।
কপার পাওয়া গেছে ৮ গুন বেশি।
আর্সেনিক প্রায় ৩ গুন বেশি।
ক্রোমিয়াম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পাওয়া গেছে।
এর আগে ২০২৪ সালে সয়াবিন ও পাম ওয়েল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়, সয়াবিন তেলে বিএসটিআইয়ের মান অনুযায়ী পারদ বা মার্কারি পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ১৭৭ গুন বেশি এবং গড় ২১ গুন বেশি।
পাম ওয়েলে পারদ বা মার্কারি পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ৯২ এবং গড় ১৩ গুন বেশি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যে কোনো খাদ্য আইটেমে গ্রহনযোগ্য মাত্রার চেয়ে মাত্র ১ গুন বেশি হলেও তা ভয়াবহ। কারণ রিস্ক ফ্যাক্টর বিবেচনায় নিতে হবে এক্ষেত্রে।
আমরা ভোর থেকে রাতে শোবার আগে পর্যন্ত যা খাই, প্রতিটি খাদ্য আইটেমে হেভিমেটাল আছে। সাথে আছে কীটনাশক রেসিডিউ, রেডিও এক্টিভ এলিমেন্টস, আফলাটক্সিন, কাপড়ের রঙ, নানান প্রকার কেমিক্যাল এবং কোনো ক্ষেত্রে পিফাস।
ঘুমাবার সময় আমরা এবং আমাদের বাচ্চারা পাহাড় পরিমাণ বিষ নিয়ে ঘুমাতে যাই। ঘরে ঘরে ক্যান্সার আর কিডনি রোগী। বাচ্চাদের গণহারে কেমো দিতে হচ্ছে। বহুবিধ দুরারোধ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত পুরো জাতি।
আপনার চারপাশে যারা আছেন, তারা কখনোই আপনার নজরে এসব আনবে না, বলবে না, মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করবে এবং সবকিছু লুকাবে।
আপনি যে রাষ্ট্রের সরকার প্রধান, সেটা কোনো সভ্য রাষ্ট্র হতে পারে না। এটা বসবাসযোগ্য ভূমি নয়।
আপনাকে অনেক কথা সামনাসামনি বলতে চেয়েছিলাম। কিভাবে সম্ভব, কারা কারা দায়ী, কী কী করতে হবে, সব পরামর্শ দিতে চেয়েছিলাম। দুর্ভাগ্য সে সৌভাগ্য আমার হয়নি।
আপনি সর্ব প্রকার ভেজাল খাদ্য থেকে দূরে থাকুন, সেই প্রার্থনা করে শেষ করছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিএসটিআই, ফুড সেইফটি অথোরিটি এবং ভোক্তাকে এক সাথে করে আমার সামনে একটু বসাতে পারবেন প্লিজ। লাইভ ক্যামেরা থাকবে।
লেখক: মাহবুব কবির মিলন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব
সূত্র: লেখাটি লেখকের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত
