
প্রচলিত ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটি, পানি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে সার আমদানির ব্যয়। এমন পরিস্থিতিতে কৃষিতে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে আলোচনায় এসেছে ন্যানো ফার্টিলাইজার বা ন্যানো সার।
নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, দস্তা ও বোরনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানকে ১ থেকে ১০০ ন্যানোমিটার আকারের ক্ষুদ্র কণায় তৈরি করে ন্যানো সার প্রস্তুত করা হয়।
সহজে গাছে পৌঁছায় পুষ্টি
ন্যানো কণার আকার অত্যন্ত ছোট হওয়ায় এগুলো পাতার মাধ্যমে স্প্রে করা হলে বা শিকড়ের কাছে প্রয়োগ করলে গাছ সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে। কিছু ন্যানো সার ধীরে ধীরে পুষ্টি উপাদান ছাড়ে। এতে সারের অপচয় কমানোর পাশাপাশি গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়।
কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, প্রচলিত ইউরিয়ার তুলনায় কিছু ন্যানো সারে পুষ্টি গ্রহণের দক্ষতা বেশি হতে পারে। এতে একই পরিমাণ জমিতে কম সার ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত পুষ্টি সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশেও ন্যানো ইউরিয়া, ন্যানো জিংক ও ন্যানো বোরন নিয়ে মাঠপর্যায়ে গবেষণা চলছে। এসব গবেষণার মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন, সারের কার্যকারিতা ও কৃষকের জন্য এর অর্থনৈতিক সুবিধা যাচাই করা হচ্ছে।
রয়েছে নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন
তবে ন্যানো সারের ব্যবহার এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশে ন্যানো সারের জন্য আলাদা নীতিমালা, পর্যাপ্ত গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণের কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।
বিশেষ করে ন্যানো কণার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মাটি, পানি, উদ্ভিদ, উপকারী অণুজীব ও মানুষের ওপর কী হতে পারে, এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ন্যানো প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা ফসল, মাটির ধরন এবং ব্যবহারের মাত্রার ওপরও নির্ভর করতে পারে।
তাই কৃষিতে ব্যাপকভাবে ন্যানো সার ব্যবহারের আগে এর কার্যকারিতা, নিরাপদ মাত্রা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
