অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের মোড়কে সতর্কবার্তা চালুর দাবিতে প্রচারণা শুরু

বাংলাদেশে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পানীয়ের মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা চালুর লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে সৃষ্ট অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এ প্রচারণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটিভের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের (সিএলপিএ) সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

মোড়কের সামনের সতর্কবার্তায় গুরুত্ব

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে অতিপ্রক্রিয়াজাত অস্বাস্থ্যকর মোড়কজাত খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এসব খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের উপাদানের উপস্থিতি সম্পর্কে ভোক্তাদের সতর্ক করতে মোড়কের সামনের অংশে সতর্কবার্তা দেওয়ার বিধিমালা প্রণয়নও কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মোড়কের সামনের অংশে অষ্টভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা থাকলে কোন প্যাকেটজাত খাবার বা পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে, তা ভোক্তারা সহজে শনাক্ত করতে পারবেন। এতে সচেতনভাবে খাবার বেছে নেওয়া সহজ হবে এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য কেনার প্রবণতা নিরুৎসাহিত হতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, মোড়কের সামনের সতর্কবার্তা খাদ্যপরিবেশ উন্নত করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগের বোঝা কমানোর একটি বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি।

সাত সপ্তাহ চলবে প্রচারণা

সাত সপ্তাহব্যাপী এ প্রচারণা টেলিভিশন, বেতার, ডিজিটাল মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ও মুদ্রিত সংবাদপত্র এবং গুগল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

প্রচারণার আওতায় ভিডিও ও অডিও বিজ্ঞাপন, স্থিরচিত্র এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন উপকরণ প্রচার করা হবে। অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পৃষ্ঠাগুলোতেও এসব উপকরণ প্রকাশ করা হবে।

আয়োজকদের লক্ষ্য, সাধারণভাবে ব্যবহৃত প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে থাকা অস্বাস্থ্যকর উপাদান এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো। পাশাপাশি, বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়ের মোড়কের সামনের সতর্কবার্তা-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রচারণাটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে কোয়ালিশন অব হেলদি ফুড, সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী। হৃদ্‌রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস এ ধরনের রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া, দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজনের হার প্রায় ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং স্থূলতার হার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ