খোলা তেল বিক্রিতে অনিরাপদ ড্রাম, ৯৫ প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা জরিমানা

অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ ড্রামে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৫০টি জেলায় বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) অধিদপ্তরের ৫০টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করে।

অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান এবং প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাহমিনা বেগমের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরীর শাহ আলী ও মিরপুর থানার শাহ আলী বাজার, মিরপুর-১, নতুন বাজার ও কল্যাণপুর এলাকায় খোলা সয়াবিন ও পাম তেল বিক্রি তদারকি করা হয়।

এ সময় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর ড্রামে ভোজ্যতেল সংরক্ষণের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়। কল্যাণপুরের নতুন বাজারে মেসার্স নিউ ইউসুফ খাদ্য স্টোরে খাবারের রং হিসেবে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত রং বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ওই রং জব্দ করা হয়।

খোলা তেলের পাত্রে লেবেল প্রদর্শনের নির্দেশ

অধিদপ্তর জানায়, অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ ড্রামে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় ঠেকাতে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের অনিরাপদ ড্রামে খোলা ভোজ্যতেল সংরক্ষণ ও বিক্রি থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। সংরক্ষিত খোলা ভোজ্যতেলের পাত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত লেবেল প্রদর্শনেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায্য ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায় হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।

ব্যবসায়ীদের পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ ও সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়।

ভোক্তাদের জন্য অধিদপ্তরের পরামর্শ

অভিযানে জনসচেতনতা বাড়াতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট ও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।

ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করে পণ্য কেনা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ভাউচার সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পণ্য কেনার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ