সোনালি মুরগি কতটা নিরাপদ? ভোক্তার জন্য সতর্কবার্তা

বাজারে সোনালি মুরগির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তুলনামূলক কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় অনেক পরিবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই মুরগির মাংস রাখছে। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের এই পরিচিত খাবারটি যদি অদৃশ্য এক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে ওঠে, তবে বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের।

সম্প্রতি কনশাস কনজিউমার্স সোসাইটি (সিসিএস) প্রকাশিত একটি সচেতনতামূলক বার্তায় জানানো হয়েছে, বাজারে বিক্রি হওয়া সোনালি মুরগির মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পাওয়া গেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯০টি মুরগির মাংসের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬৬টিতে (প্রায় ৬৮.২১ শতাংশ) এই প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া কেন এত ভয়ংকর? সাধারণত মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু যদি শরীরে এমন ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে, যা প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করেছে, তাহলে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়তে পারে। ফলে সাধারণ সংক্রমণও দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খামারে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, পশুপালনে স্বাস্থ্যবিধির ঘাটতি এবং খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার দুর্বল তদারকি এই সমস্যার অন্যতম কারণ। অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, যা পরে খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সোনালি মুরগি খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। বরং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে জরুরি। মুরগির মাংস ভালোভাবে ধুয়ে সম্পূর্ণ সিদ্ধ বা রান্না করা, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, রান্নার আগে ও পরে হাত পরিষ্কার করা এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকা, এসব অভ্যাস ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এদিকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা, খামার মালিক, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা- সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। খামারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব।

খাদ্য শুধু পেট ভরানোর উপকরণ নয়; এটি সুস্থ জীবনের ভিত্তি। তাই বাজার থেকে খাবার কেনার সময় সচেতনতা, নিরাপদ রান্নার অভ্যাস এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে খাদ্য সংগ্রহ, এসবই হতে পারে আমাদের এবং আমাদের পরিবারের সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি। ভোক্তার সচেতনতাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার প্রথম ধাপ।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ