যেভাবে ভেজাল দুধ তৈরি করা হয়

গরুর দুধ শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর খাদ্য। কিন্তু সেই দুধের নামেই চলছে ভয়াবহ প্রতারণা। অল্প পরিমাণ আসল দুধের সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান ও রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নকল দুধ, যা খোলা বাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগ্রহকেন্দ্র ও কারখানায় সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি দেশটিভির একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি অসাধু চক্র অল্প পরিমাণ দুধের সঙ্গে ক্রিম, সয়াবিন তেল, পানি, সোডা, চিনি ও লবণ মিশিয়ে ব্লেন্ডারের সাহায্যে দুধের মতো দেখতে একটি মিশ্রণ তৈরি করছে। তাদের দাবি, এভাবে তৈরি দুধ সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল দুধ থেকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব।

ভিডিওতে আরো দেখা যায়, পানির পরিমাণ বাড়ানোর ফলে ঘনত্ব কমে গেলে তা সমন্বয় করতে চিনি ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মিষ্টি স্বাদ আড়াল করতে লবণ মেশানো হচ্ছে। এরপর বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে দুধের ফ্যাট ও ঘনত্ব এমনভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে, যেন সাধারণ পরীক্ষায় সেটি খাঁটি দুধের মতো ফলাফল দেখায়।

অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের নকল দুধ বিভিন্ন দুধ সংগ্রহকেন্দ্র, খোলা বাজার এবং কিছু কারখানায় সরবরাহ করা হয়। দুধ দীর্ঘ সময় ভালো রাখার জন্য সংরক্ষণকারী রাসায়নিকও ব্যবহার করা হয় বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে খামারিদের অভিযোগ, বাজারে ভেজাল দুধের বিস্তারের কারণে তারা উৎপাদিত আসল দুধের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অসাধু চক্রের কারণে একদিকে যেমন খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে ভোক্তারাও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, সোডা, অতিরিক্ত লবণ, তেল ও অন্যান্য রাসায়নিক মিশ্রিত দুধ দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিকের কারণে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ভেজাল দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বাজার তদারকি জোরদার এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ