ইস্ট বেকারের ব্রেড: দুই পরীক্ষার দুই ফল, তাহলে সত্য কোনটি?

অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ও ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ায় গত মাসে জুলাইয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) চীনা নাগরিক ইউ জিবাইয়ের মালিকানাধীন ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেড ও ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেড-এর নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও বিপণন বন্ধের নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে ছিল ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)।

পরবর্তীতে চলমান আগস্টে ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে দোষ স্বীকার করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ না করার মুচলেকা নিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তাহলে বিগত বছরগুলোতে সারাদেশে বিষাক্ত রুটি/কেকে কী পরিমাণ শিশু কিংবা মানুষের দেহের ক্ষতি হয়েছে, সে হিসাব কে করে দেবে!? একবার ভেবে দেখুন, কত ভয়াবহ বিষয়! এই সম্পর্কিত বিষয়ে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করা যেতে পারে …

এবার আসি টু দ্যা পয়েন্টে

কিছুদিন আগে বাজার থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভসহ বিভিন্ন রাসায়নিকের ব্যবহার সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়ার পর ইস্ট বেকার স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেদের উদ্যোগে পরীক্ষা করিয়েছে। বলা হচ্ছে, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই পরীক্ষা ও সংবাদ প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন থেকেই যায়

বাজার থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় যদি অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের নিজেদের করানো পরীক্ষায় কীভাবে একই পণ্যের সব রাসায়নিক বা উপাদান সহনীয় মাত্রার মধ্যে পাওয়া যায়? এটি আসলে কোন ধরনের পরীক্ষা? সাধারণ মানুষের ভাষায় বলতে গেলে, ঘরের খাবারে সব ঠিকঠাক, আর বাইরের খাবারে সবটাই বেঠিক!

একই পণ্যের ক্ষেত্রে দুটি পরীক্ষার ফল যদি ভিন্ন হয়, তাহলে পরীক্ষার পদ্ধতি, নমুনা সংগ্রহ, নমুনার উৎস, উৎপাদনের ব্যাচ, পরীক্ষাগার, পরীক্ষার সময় ও পরীক্ষার মানদণ্ড, সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

আমি নিজেও এই ব্রেড দুইবার খেয়েছি। তখনই প্রশ্ন জেগেছিল, একটি ব্রেডের মেয়াদ কীভাবে দুই মাস হতে পারে? এত দীর্ঘ সময় ব্রেড ভালো থাকার পেছনে কী ধরনের প্রক্রিয়া বা উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও জানা প্রয়োজন।

গ্রামীণ বাজারে এই ব্রেডের চাহিদা অনেক বেশি এবং শিশুদের টিফিনেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তাই বিষয়টি শুধু একটি কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থের নয়, এর সঙ্গে সাধারণ ভোক্তা, বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত।

পুনরায় বাজারজাতের অনুমতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি আরও সতর্ক ও কঠোরভাবে বিবেচনা করা দরকার। ভোক্তার আস্থা শুধু পরীক্ষার রিপোর্টে নয়, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া উচিত। এবং বাজারে এলেও কঠোর নজরদারিতে রাখা ৬ মাস পরপর প্রান্তিক লেভেল থেকে এই রুটি/কেকের স্যাম্পল নিয়ে ল্যাব টেস্ট করা উচিত।

প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য

সম্প্রতি ইস্ট বেকার ব্রেডের মান ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহার নিয়ে আলোচনা-উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে বাজার থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়ার দাবি ওঠে। অথচ এবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেড স্বপ্রণোদিত হয়ে বিভিন্ন স্বীকৃত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করিয়েছে।

লেখক: হোসেন সোহেল, ব্র্যান্ড এ্যামব্যাসেডর, প্রাকৃতিক হাট

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ