
খুলনার কয়রায় জরিপ করা খাবার পানির উৎসের অর্ধেকের বেশি লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। উপকূলীয় বাংলাদেশে আইসিডিডিআর,বির এক গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে উঠে এসেছে, খাবার পানিতে লবণাক্ততার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও উদ্বেগজনক।
গবেষকেরা খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় মোট ২৭ হাজার ৬৯৭টি পানির উৎস জরিপ করেন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০৩টি উৎস খাবার পানির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। এসব উৎসের মধ্যে কয়রায় ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ পানিতে লবণাক্ততা পাওয়া যায়।
গবেষণায় ৪০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ১৫ হাজার ৪৭১ জনের হৃদ্রোগের ঝুঁকিও মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজন অর্থাৎ ২১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের আগামী ১০ বছরে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই হার আনুমানিক ৯ দশমিক ০২ শতাংশ।
আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, খাবার পানির লবণাক্ততা এখন আর শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়। পানির মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গর্ভাবস্থায় নারীরাও অতিরিক্ত ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
গবেষণার এসব প্রমাণের ভিত্তিতে গবেষকেরা এখন একটি সমন্বিত উদ্যোগ পরীক্ষা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে কম লবণাক্ত খাবার পানির প্রাপ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
আইসিডিডিআর,বি ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক পলিসি ও গবেষণা ফলাফলবিষয়ক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সেমিনারে সরকার, গবেষক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবসম্মত ও নীতিগত সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন।
সূত্র: আইসিডিডিআর,বি
