নিরাপদ ও মানসম্মত ওষুধ পাওয়া মানুষের অধিকার: ভোক্তা-অধিকার মহাপরিচালক

জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো: জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘Safe medicine is a right, not a privilege’—নিরাপদ ও মানসম্মত ওষুধ পাওয়া মানুষের অধিকার।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি, বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি, বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল, ওষুধ ব্যবসায়ী, কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মহাপরিচালক বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি গুরুতর অপরাধ। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কোনোভাবেই বিক্রি বা প্রদর্শনের জন্য রাখা যাবে না। লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে জরিমানা করা অধিদপ্তরের মূল উদ্দেশ্য নয়; অনিয়ম প্রতিরোধ ও তার প্রতিকার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, নকল, ভেজাল ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রি প্রতিরোধ শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, এটি নৈতিকতারও বিষয়। বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহনশীল, দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সভায় মাঠপর্যায়ের বাজার তদারকির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, নির্ধারিত তাপমাত্রা না মেনে ওষুধ সংরক্ষণ, DAR নম্বরবিহীন ওষুধ, আমদানিকারকের স্টিকারবিহীন বিদেশি ওষুধ এবং গায়ের মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রির মতো অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাবিহীন প্রতিষ্ঠানের হারবাল, আয়ুর্বেদিক ও ভেষজ ওষুধ বিক্রি এবং মেয়াদ পরিবর্তন করে ওষুধ বিক্রির ঘটনাও পরিলক্ষিত হয়েছে।

মুক্ত আলোচনায় নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি প্রতিরোধের পাশাপাশি ফিজিসিয়ান স্যাম্পল সরবরাহ, ফুড সাপ্লিমেন্টের অনুমোদন ও ব্যবহার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর নজরদারির দাবি জানানো হয়। ঢাকা শহরকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নকল ও ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নকল ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে তদারকি জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট ও বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স থাকা প্রতিষ্ঠানেই ওষুধ সরবরাহের জন্য কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। ফিজিসিয়ান স্যাম্পলের জন্য পৃথক রঙের মোড়ক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পৃথক বক্সে সংরক্ষণ, নন-মেডিকেটেড পণ্য আলাদাভাবে প্রদর্শন এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং ভোক্তাদের সহজ বাংলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সূত্র: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ