
সম্প্রতি একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে টুথপেস্টের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি বলছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাই ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো পাঁচ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের প্লাস্টিক কণা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এটি একটি উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয় হলেও এর সঠিক স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণে আরও বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএসটিআই জানায়, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র টুথপেস্টসহ ত্বকে ব্যবহার্য বা প্রসাধনসামগ্রীতে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ২০২৭ সালের ১৭ অক্টোবরের মধ্যে টুথপেস্টে এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ আন্তর্জাতিক মান সংস্থার বিদ্যমান টুথপেস্ট মানদণ্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা বা একক পরীক্ষা পদ্ধতি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
বিএসটিআই জানায়, বাংলাদেশের মানদণ্ড (বিডিএস ১২১৬:২০১২) অনুযায়ী টুথপেস্ট বিক্রির জন্য লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। অনুমোদিত এই স্ট্যান্ডার্ডে টুথপেস্টে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকা দেওয়া রয়েছে, যার মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো উল্লেখ নেই। অর্থাৎ, উৎপাদকদের ইচ্ছাকৃতভাবে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক মেশানোর কোনো সুযোগ নেই।
সংস্থাটির মতে, শুধু পরীক্ষায় প্লাস্টিক কণা পাওয়ার অর্থ এই নয় যে এটি ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হয়েছে বা তাৎক্ষণিকভাবে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কণার ধরন, উৎস ও সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত হতে বিশদ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
এরই মধ্যে বিএসটিআই সংশ্লিষ্ট গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ডেটা ও পদ্ধতি চেয়েছে। পাশাপাশি টুথপেস্ট উৎপাদক ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামালের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বিএসটিআই নিজ উদ্যোগে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি-বিদেশি স্বীকৃত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। পরীক্ষায় কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদনহীন উপাদান বা মান ব্যত্যয়ের প্রমাণ দিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে বিএসটিআই স্পষ্ট করেছে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তথ্য ও আইনি যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ডকে ঢালাওভাবে অনিরাপদ বলা সঠিক নয়। এরই মধ্যে বিএসটিআই বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন, দন্ত চিকিৎসক ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে বিদ্যমান মানদণ্ড পর্যালোচনা শুরু করেছে। প্রমাণ মিললে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা পদ্ধতি যুক্ত করে জাতীয় মান হালনাগাদ করা হবে।
জনসাধারণকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএসটিআই পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মুখের যত্ন নিতে, টুথপেস্ট গিলে ফেলা থেকে বিরত থাকতে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে বলেছে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
