
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে তিনটি মুড়ি উৎপাদনকারী কারখানায় অভিযান চালিয়ে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) পরিচালিত এ অভিযানে মেসার্স ভাই ভাই ফুড ইন্ডাস্ট্রি, মেসার্স বাবুল চিড়া মুড়ি ইন্ডাস্ট্রি এবং মেসার্স আমানত ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানকালে মেসার্স ভাই ভাই ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, স্যাঁতসেঁতে ও ময়লা-মাকড়সাযুক্ত পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন করতে দেখা যায়। এছাড়া নোংরা ড্রামে পানির সঙ্গে শিল্প লবণ (ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট) মিশিয়ে মুড়ি তৈরিতে ব্যবহার এবং জেনারেটরের পাশের স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন স্থানে শিল্প লবণ সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়।
মেসার্স বাবুল চিড়া মুড়ি ইন্ডাস্ট্রিতেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন, নোংরা ড্রামে পানির সঙ্গে শিল্প লবণ মিশিয়ে ব্যবহার এবং টয়লেটের পাশে শিল্প লবণ সংরক্ষণের বিষয়টি ধরা পড়ে।
অন্যদিকে মেসার্স আমানত ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে নালার পাশের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন, নোংরা ড্রামে পানির সঙ্গে শিল্প লবণ ব্যবহার এবং খোলা মুড়ি সংরক্ষণের পাশেই কবুতর পালন করতে দেখা যায়।
এসব অপরাধে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে পৃথকভাবে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করে আদায় করেন।
অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমানসহ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সূত্র: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
