
একসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিছু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল টুথপেস্টে বহুল ব্যবহৃত উপাদান ছিল Triclosan। প্লাক কমানো এবং মাড়ির প্রদাহ (Gingivitis) নিয়ন্ত্রণে এর ব্যবহার জনপ্রিয় হলেও, গত এক দশকে এই রাসায়নিককে ঘিরে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত উদ্বেগ ক্রমেই বেড়েছে। এর ফলে অধিকাংশ বড় টুথপেস্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় Triclosan ব্যবহার বন্ধ করে বিকল্প উপাদান গ্রহণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Triclosan নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো এটি দীর্ঘমেয়াদে জীবাণুর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ (Antimicrobial Resistance) বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া প্রাণীর ওপর পরিচালিত কিছু গবেষণায় হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব, কোষীয় পরিবর্তন এবং কিছু ধরনের টিউমার বৃদ্ধির সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
Triclosan নিয়ে আরও যে উদ্বেগ রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মুখগহ্বরের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা, ত্বক বা মুখের ভেতরে অ্যালার্জি বা জ্বালা সৃষ্টি এবং পরিবেশে দীর্ঘসময় থেকে জলজ প্রাণীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা।
এই উদ্বেগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে Triclosan-এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে U.S. Food and Drug Administration ২০১৬ সালে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবানসহ অনেক ওভার-দ্য-কাউন্টার পণ্যে Triclosan নিষিদ্ধ করা হয়। যদিও সেই সিদ্ধান্ত সরাসরি টুথপেস্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না, এরপর অধিকাংশ বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের টুথপেস্ট থেকে Triclosan সরিয়ে নেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নেও এই উপাদানের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
বাংলাদেশে টুথপেস্টে Triclosan-এর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার স্পষ্ট সরকারি ঘোষণা নেই। তবে কোনো বৈধ পণ্যে এই উপাদান ব্যবহার করা হলে সাধারণত ইনগ্রেডিয়েন্ট তালিকায় “Triclosan” নামটি উল্লেখ থাকার কথা। তাই ভোক্তাদের টুথপেস্ট কেনার আগে লেবেলের উপাদান তালিকা পড়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে অধিকাংশ জনপ্রিয় টুথপেস্টে Triclosan-এর পরিবর্তে Fluoride-ভিত্তিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে কার্যকর এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ফলে ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিভ্রান্তিকর প্রচারণার পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে পণ্য নির্বাচন করা এবং প্রয়োজন হলে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
