
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের রুটিতে ব্লেড পাওয়ার আলোচিত ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে কমিটি।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম বলেন, “রুটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি বা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্লেড ঢুকে যাওয়ার প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি। বরং বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিজেই ব্লেডটি রুটির মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল বলে তদন্তে এসেছে।”
তিনি বলেন, এ ছাড়া এ ঘটনায় যাচাই-বাছাই ছাড়া রুটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সারমিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেন।
ইউএনও মো. ইব্রাহীম বলেন, তদন্ত দল রুটি উৎপাদনকারী কারখানা পরিদর্শন করে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করেছে। ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও দেখা গেছে, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় অক্ষত একটি ব্লেড রুটির ভেতরে চলে যাওয়ার সুযোগ নেই।
“পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি জানতে পারে, একজন ছাত্রী স্কুলে আনা ব্লেড শিক্ষকের বকুনির ভয়ে রুটির মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল। পরে অন্য এক শিক্ষার্থী বিষয়টি দেখে ফেললে, সে নিজেই তখন রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার কথা শিক্ষিকাকে জানায়।”
ইউএনওর দাবি, “শিক্ষিকা বিষয়টি যাচাই-বাছাই না করেই ছবি তুলে বিভিন্ন ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ছড়িয়ে দেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে।”
রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খান বলেন, “সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থায় অক্ষত ব্লেড রুটির ভেতরে থাকার সুযোগ নেই।”
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী সহকারী শিক্ষিকা সারমিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
২২ জুলাই হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী টিফিনের রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার দাবি করলে ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
