আখ চাষে সম্ভাবনা, শ্রমিক ও ন্যায্য দামের সংকটে পিছিয়ে কৃষক

উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে একসময় মানিকগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আখের আবাদ ছিল চোখে পড়ার মতো। দিগন্তজোড়া সবুজ-হলুদ আখের খেত ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু শ্রমিক সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ধীরে ধীরে কমছে এ ফসলের আবাদ। ফলে হারাতে বসেছে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আখচাষ।

তবে আখের আবাদ বাড়িয়ে কৃষকদের লাভবান করতে আধুনিক জাত ও বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদে জোর দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। একই সঙ্গে তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে আখ ও এর সঙ্গে সাথী ফসল চাষের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় একসময় কমবেশি আখের চাষ হলেও বর্তমানে এর পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে। বিভিন্ন এলাকার খেতে এখনও সবুজ-হলুদ আখ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। খেত থেকেই ছোট-বড় পাইকাররা আখ কিনে নিয়ে স্থানীয় হাটবাজার ও অলিগলিতে বিক্রি করছেন। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী, উভয় পক্ষই আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আখ চাষে দীর্ঘ সময় জমি ধরে রাখতে হয়। এ কারণে চাষের পুরো সময়জুড়ে শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সময়মতো পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়া এবং উৎপাদিত আখের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক এ ফসল চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গনপুর এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, জমি বর্গা নেওয়া ও চাষাবাদ মিলিয়ে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো দাম পেলে প্রায় এক লাখ টাকায় আখ বিক্রি করা সম্ভব। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

একই এলাকার কৃষক শাহিনুর রহমান বলেন, আখ চাষে দীর্ঘ সময় লাগে। এ কারণে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সময়মতো পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যায় না। পাশাপাশি উৎপাদিত আখের সঠিক বাজারমূল্যও পাওয়া যায় না। এসব কারণে দিন দিন এলাকায় আখের আবাদ কমে যাচ্ছে।

পাইকার আতাউর রহমান বলেন, তিনি ১০০ পিস আখ ২ হাজার ২০০ টাকায় কিনছেন। প্রতিটি আখ ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করার আশা করছেন। তার ভাষ্য, আগে আখের আবাদ বেশি হতো। এখন সার, বীজ ও শ্রমিক সংকটের কারণে আবাদ কমে গেছে। উৎপাদন বাড়লে পাইকাররা সহজেই মাঠ থেকে আখ কিনতে পারবেন। এতে কৃষকরাও লাভবান হবেন।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুম ভূঁইয়া বলেন, সদর উপজেলায় এখন পর্যন্ত ১৫৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। তামাক চাষের পরিবর্তে আখ ও এর সঙ্গে সাথী ফসল চাষের পরিকল্পনার একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে।

কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তামাকের ক্ষতিকর চাষ কমানোর পাশাপাশি আখের আবাদ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আখের হারানো গুরুত্বও ফিরে আসতে পারে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ