
দেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল দিয়ে বিস্কুট তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে গাজীপুরের শ্রীপুরের বৈরাগীরচালা এলাকার ‘মুমতাহিনা ফুড অ্যান্ড অয়েল মিলস’। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে এবং কেমিক্যালমুক্ত উপায়ে উৎপাদন ও বাজারজাত করে এরই মধ্যে অফলাইন-অনলাইনে ক্রেতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে এই ‘কাঁঠাল বিস্কুট’।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও কাঁঠাল বিস্কুটের উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহারের চিন্তা থেকেই কাঁঠাল দিয়ে বিস্কুট উৎপাদন করেছেন। আগামীতে কাঁঠালের চিপস, কেক, ড্রাই কেকসহ আরো খাদ্যপণ্য তৈরির কাজ চলছে। আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া (৪৮) বলেন, পৈতৃক তিন বিঘা জমিতে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মুমতাহিনা ফুড অ্যান্ড অয়েল মিলস’। প্রথমে ‘কৃষক সরিষা তেল’ উৎপাদন করে সফলতা পান।
পরে বিভিন্ন ধরনের ‘মেহমান গুঁড়া মসলা’, ‘মেহমান ক্লাসিক চানাচুর’, ‘মেহমান লাচ্ছা সেমাই’, বিভিন্ন ধরনের মেহমান মিষ্টি, কয়েক ধরনের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘কাঁঠাল থেকে খাদ্য উৎপাদনের স্বপ্নের বিষয়টি ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া আমার ছেলের সঙ্গে শেয়ার করি। আমার স্বপ্ন আর ছেলের প্রযুক্তিতে দুই মাস আগে শুরু হয় কাঁঠাল দিয়ে বিস্কুট উৎপাদন। নাম দেন ‘মুমতাহিনা কাঁঠাল বিস্কুট’। প্রতিটি ৭৫০ গ্রাম ওজনের বিস্কুটের বক্সের দাম ৮৫০ টাকা। এরই মধ্যে দেড় টনের মতো বিস্কুট উৎপাদন ও বিক্রি হয়ে গেছে।’
কাঁঠাল বিস্কুট উৎপাদনের প্রধান কারিগর মানিক মিয়া বলেন, প্রথমে পাকা কাঁঠাল থেকে কোষ বের করে ব্লেন্ডার করে রস বের করা হয়। পরে মিক্সচার মেশিনে কাঁঠালের রসের সঙ্গে ঘি, বাটার, দুধ, ডিম, ময়দা ও অন্যান্য উপকরণ মেশিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়। ওই মণ্ড উঠিয়ে কেটে বিস্কুট তৈরি করে ট্রেতে ওভেনে ঢোকানো হয়। ২৫ মিনিট পর বিস্কুট ওভেন থেকে বের করা হয়। ঠাণ্ডা হলে বাজারজাত করা হয়।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার উদ্যোগ ইতিবাচক। তিনি চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
