
ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকা এবং অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ নীতি বাতিলের সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ওষুধ মানুষের মৌলিক চিকিৎসা প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই শুধু বাজারের প্রতিযোগিতার ওপর ছেড়ে দিয়ে ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
শনিবার পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড রিসোর্সেস কাউন্সিলের (পিপিআরসি) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে আলোচকেরা এসব কথা বলেন।
ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, দেশের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। ১৯৮২ সালে প্রণীত জাতীয় ওষুধ নীতির মাধ্যমে দেশে ওষুধশিল্পের একটি শক্ত ভিত তৈরি হয়। এর ফলে স্থানীয়ভাবে ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে বর্তমানে ওষুধের মূল্য নির্ধারণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আলোচকেরা। তাঁদের মতে, ওষুধের দাম নির্ধারণে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর একক নিয়ন্ত্রণ থাকা জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ওয়েবিনারে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা অবশ্য ভিন্নমত তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, ওষুধের মানের সঙ্গে দামের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই বাজারে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ওষুধের দাম নির্ধারিত হওয়াই যৌক্তিক।
অন্যদিকে আলোচকেরা বলেন, দেশের মোট চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই ওষুধ কেনায় ব্যয় হয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই ব্যয় বহন করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ওষুধের দাম বেড়ে গেলে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধের পূর্ণ কোর্স শেষ করতে পারেন না, যা জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পিপিআরসির চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান বলেন, সরকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রোগের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সরাসরি কিনে স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে রোগীদের সরবরাহ করতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জরুরি ওষুধের প্রাপ্যতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আলোচকেরা মনে করেন, ওষুধের দাম নির্ধারণে উৎপাদন ব্যয়, ওষুধের মান, বাজার প্রতিযোগিতা ও ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা, সব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে কার্যকর সরকারি নীতি ও তদারকি জোরদার করা জরুরি।
