
দেশের মাটি ও পানিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। পানিতে সীসা ও আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি চালেও ভারী ধাতুর উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানান তিনি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাটি, ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি কীটনাশক—কোথা থেকে এসব ক্ষতিকর উপাদান আসছে, তা চিহ্নিত করা জরুরি। এ বিষয়ে সরকার গবেষণা শুরু করেছে। মাটি ও পানি দূষণ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি নেই। তবে গুণগত মানসম্পন্ন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে কোনোভাবেই খাদ্যের মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না। খাদ্য উৎপাদনে এমন কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না, যা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
কৃষিতে ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাটি, পানি ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে গবেষকদের আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই নদীর মিঠাপানি সেচকাজে ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমানো বা বন্ধ করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্যপণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে মানসম্মত উৎপাদনের বিকল্প নেই। এ জন্য গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করা গেলে দেশের অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন্না ভ্যান ডের লিন্ডেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। লেখাটির ৫টি শিরোনাম দিবে।
সূত্র: জাতীয় অর্থনীতি
