
সকালের নাশতা দিনের প্রথম খাবার। তাই দিনের শুরুতে কী খাওয়া হচ্ছে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় খালি থাকার পর সকালে কিছু খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, অম্বল বা অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
চা বা কফি
অনেকের ঘুম থেকে উঠেই চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। তবে খালি পেটে চা-কফি গ্রহণে কিছু মানুষের পাকস্থলীতে অম্লের ক্ষরণ বাড়তে পারে। ফলে অম্বল, বুকজ্বালা, বমিভাব বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই খালি পেটে চা বা কফির পরিবর্তে আগে পানি বা হালকা কিছু খাবার গ্রহণ করা ভালো।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে ক্যাফেইন ও ট্যানিন রয়েছে। খালি পেটে এটি পান করলে কারও কারও বমিভাব, অ্যাসিডিটি বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে অ্যাসিড রিফ্লাক্স, পেপ্টিক আলসার, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থাকলে খালি পেটে গ্রিন টি পান করার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
সাইট্রাস জাতীয় ফল
কমলা, লেবু বা আনারসের মতো অম্লীয় ফল খালি পেটে খেলে যাদের অ্যাসিডিটির প্রবণতা রয়েছে, তাদের অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের ফল খালি পেটে খাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সহনশীলতা বিবেচনা করা ভালো।
তেল-ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার
সকালে খালি পেটে অতিরিক্ত ঝাল, তেল ও মসলাযুক্ত খাবার পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া ও অম্বলের সমস্যা বাড়াতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। কার্বনেটেড পানীয়ও পেটফাঁপা ও গ্যাসের কারণ হতে পারে।
ফলের রস
গোটা ফলের তুলনায় ফলের রসে সাধারণত ফাইবার কম থাকে। ফলে সকালে খালি পেটে মিষ্টি ফলের রস পান করলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। কিছুক্ষণ পর ক্ষুধা বা দুর্বলতাও অনুভূত হতে পারে। তাই ফলের রসের পরিবর্তে গোটা ফল খাওয়াই তুলনামূলকভাবে ভালো।
সকালের খাবার হিসেবে তাই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা রয়েছে, তারা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।
