কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা চিনবেন যেভাবে

সারা বছর সহজলভ্য ফলের তালিকায় কলা অন্যতম। পটাশিয়াম, ফাইবার ও ভিটামিন বি৬ সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ এই ফল সব বয়সী মানুষের কাছেই জনপ্রিয়। সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম দামের কারণে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়ও কলার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

তবে বাজারে ফল দ্রুত পাকানোর জন্য ক্ষতিকর ও অনুমোদনহীন রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করে কলাসহ বিভিন্ন ফল পাকানোর বিষয়টি খাদ্যনিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগের কারণ।

তবে সব ধরনের কৃত্রিমভাবে পাকানো কলাই যে ক্ষতিকর, বিষয়টি এমন নয়। ইথাইলিন একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিদ হরমোন, যা ফল পাকানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ পদ্ধতিতে ইথাইলিন ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে কলাসহ বিভিন্ন ফল পাকানো হয়। অন্যদিকে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো ক্ষতিকর বা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

কলা দেখে কি কেমিক্যাল ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়?

শুধু কলার রং, গন্ধ বা বাইরের চেহারা দেখে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় যে সেটি ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে। কোনো কলা খুব উজ্জ্বল বা একরঙা হলুদ হলেও শুধু এ কারণে সেটিকে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

তবে অস্বাভাবিকভাবে অসম রং, খোসা দ্রুত হলুদ হয়ে গেলেও ভেতরের অংশ শক্ত বা অপরিপক্ব থাকা কিংবা স্বাভাবিক পাকার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য থাকলে সতর্ক হওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ফল কেনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা এবং ফলের উৎস ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

পানিতে ভাসিয়ে কেমিক্যাল শনাক্ত, যদিও দাবিটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই বলা হয়, কলা পানিতে ভাসলে সেটি কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো এবং ডুবে গেলে প্রাকৃতিকভাবে পাকা। কিন্তু এ ধরনের পরীক্ষার নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

কলা পানিতে ভাসবে নাকি ডুববে, তা নির্ভর করতে পারে ফলের ঘনত্ব, জাত, পরিপক্বতা ও অন্যান্য ভৌত বৈশিষ্ট্যের ওপর। তাই পানিতে ভাসা বা ডোবার মাধ্যমে কলায় ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

কেন ক্যালসিয়াম কার্বাইড নিয়ে উদ্বেগ?

ক্যালসিয়াম কার্বাইড আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে অ্যাসিটিলিন গ্যাস উৎপন্ন করে, যা ফল পাকানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। বিভিন্ন খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এই উপাদান ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। শিল্পগ্রেড ক্যালসিয়াম কার্বাইডে ক্ষতিকর অমিশ্রণ থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

ভোক্তাদের জন্য পরামর্শ

কলার রং বা পানিতে ভাসা-ডোবার মতো ঘরোয়া পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে ক্ষতিকর রাসায়নিক শনাক্তের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। সন্দেহজনক ফল বা খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরীক্ষাগারভিত্তিক পরীক্ষাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

সচেতনভাবে ফল কিনুন, বিশ্বস্ত বিক্রেতাকে অগ্রাধিকার দিন এবং কোনো ফলের মান বা নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ