দেশে বাড়ছে ডায়াবেটিস, প্রতি ৫ প্রাপ্তবয়স্কে আক্রান্ত ১ জন

দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে দেশের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের একটি বড় অংশ এ রোগে আক্রান্ত। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশনের (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০ থেকে ৮০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮৫ লাখ। এ হিসাবে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। একই সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের যৌথ সমীক্ষায় আরও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এছাড়া প্রতি ১০০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে ২৬ জন গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন।

শুধু রোগীর সংখ্যাই নয়, দেশে ডায়াবেটিস বৃদ্ধির হারও উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ ডায়াবেটিসের হারের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ সারিতে। বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ।

ডায়াবেটিসের হারের দিক থেকে পাকিস্তানে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ, কুয়েতে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ, মিশরে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ, কাতারে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ১৯ শতাংশ, সৌদি আরবে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, মেক্সিকোতে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ, তুরস্কে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া শ্রীলঙ্কায় ১১ দশমিক ৩ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১০ দশমিক ৮ শতাংশ, ইরাকে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ও চীনে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ, স্পেনে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যেভাবে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৩০ থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে উচ্চ ডায়াবেটিসের হারের দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও ওপরে উঠে আসতে পারে।

ডায়াবেটিসের পাশাপাশি এ রোগজনিত বিভিন্ন জটিলতাও দ্রুত বাড়ছে। এর মধ্যে পক্ষাঘাত, হৃদরোগ, পায়ে পচনশীল ক্ষত, অন্ধত্ব এবং কিডনিসংক্রান্ত জটিলতা উল্লেখযোগ্য। দেশে প্রতি ১০০ জন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে প্রায় ৬০ জন কোনো না কোনো ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে মাত্র ২০ শতাংশ রোগীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ফলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

নোট: সংবাদটি ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশনের (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ