
ফরিদপুরে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অননুমোদিত খাদ্য রং জব্দ করে ধ্বংস এবং ভবিষ্যতে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা প্রশাসন, ফরিদপুর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকার সোনালী ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত চানাচুর বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক সিএম লাইসেন্স ছাড়া বিক্রি ও বিতরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ৩১ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে ব্যবহৃত অননুমোদিত রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
একই এলাকায় অবস্থিত শ্রী কৃষ্ণ ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ (আপন ফ্লাওয়ার মিল)-এর বিরুদ্ধে বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স ছাড়াই আটা ও ভুষির পণ্যে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ১৫(১)/২৭ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণের আগে আর কোনো পণ্য বাজারজাত না করার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে জামিয়া ফুড প্রোডাক্টস-এ উৎপাদিত চানাচুর ও বিস্কুটে ব্যবহৃত রঙের পরীক্ষণ প্রতিবেদন না থাকা, স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় খাদ্য রং ব্যবহার এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রেড ও বিস্কুট সংরক্ষণের অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফরিদপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার পাল।
অভিযানে সার্বিক সমন্বয় করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আজমুল ফুয়াদ। এছাড়া বিএসটিআই ফরিদপুরের ফিল্ড অফিসার (সিএম), পরিদর্শক (মেট), সদর উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
